শীতে শিশুর পরিচর্যা

শীত আসি আসি করছে এদিকে বাবা-মায়ের উদ্বিগ্নতা বাড়ছে। শীতে শিশুকে কি পড়াবেন?কি খাওয়ানো উচিত? কিভাবে যত্ন করা উচিত?শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ছে সহজেই,কিভাবে প্রতিরোধ করতে পারি?আরো কত কি!
আজকের লিখায় আপনাদের প্রশ্নের সব উত্তর পেয়ে যাবেন আশা করি।

শিশুর সার্বিক যত্নে করনীয়

☑️সচেতন হন: শিশুদের ঠাণ্ডা বাতাস এবং ধুলাবালি থেকে দূরে রাখতে হবে। যেহেতু শীতে সর্দি-কাশি,নিউমোনিয়া ইত্যাদি রোগগুলো সংক্রামিত হয় তাই যতটা সম্ভব শিশুদের জনসমাগমপূর্ণ জায়গায় কম নেয়াই ভালো। শিশুদের গামছা, রুমাল, তোয়ালে প্রভৃতি আলাদা হওয়া উচিত এবং আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় শিশুদের দূরে রাখা উচিত। শিশুদের স্কুলে অথবা বাইরে নিয়ে গেলে মুখে মাস্ক ব্যবহার করার অভ্যাস করাতে হবে। তবে সমস্যা বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

☑️গরম পানি: শিশুদের হালকা কুসুম গরম পানি পান ও ব্যবহার করানো উচিত। দাঁত ব্রাশ করা, হাত-মুখ ধোয়া, গোসল, খাওয়াসহ শিশুদের নানা কাজে হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করলে এ সময় শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকবে। নিয়মিত গোসল করাতে হবে, তবে গোসলের সময় শরীরের কাছাকাছি তাপমাত্রার হালকা গরম পানি ব্যবহার করা ভালো। নবজাতক কিংবা ঠাণ্ডার সমস্যা আছে এমন শিশুর ক্ষেত্রে গরম পানিতে কাপড় ভিজিয়ে পুরো শরীর মুছে দেয়া যেতে পারে। অনেকেই শিশুকে জবজবে করে সরিষার তেল মাখিয়ে গোসল করিয়ে থাকেন যা উচিত নয়। কারণ এতে গোসল শেষেও শিশুর চুল ভেজা থাকে এবং ঠাণ্ডা লাগে।

☑️উষ্ণ পোশাক: শিশুদের অবশ্যই উলের পোশাক পরিয়ে রাখা উচিত। তবে চিকিৎসকের মতে শিশুদের সরাসরি উলের পোশাক পরানো ঠিক নয়। এতে উলের ক্ষুদ্র লোমে শিশুদের অ্যালার্জি হতে পারে। নরম সুতি কাপড় পরিয়ে তার ওপর উলের পোশাক পরানো উচিত। তবে হালকা শীতে শিশুদের গরম পোশাকটি খুব বেশি গরম কাপড়ের হওয়া উচিত নয়। কারণ খুব বেশি গরম কাপড় পরালে গরমে ঘেমে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। শিশুদের রাতে ঘুমানোর আগে হালকা ফুল হাতা গেঞ্জি পরিয়ে রাখুন।

শিশুকে শীতকালীন পোশাক পরিধান করানো

☑️খাবার: শীতের সময়টা শিশুদের খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। ফলে তাদের শরীর খারাপ হয়ে যায়। তাদের ঘনঘন পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। ডিমের কুসুম, সবজির স্যুপ, ফলের রস, গাজর, বিট, টমেটো ইত্যাদি শিশুদের ত্বকের জন্য বেশ উপকারী। এ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের শীতের সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে খাওয়াতে পারেন। শিশুরা এ সময় যেন কোনো ধরনের ঠাণ্ডা খাবার না খায় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

☑️ত্বকের যত্ন: শিশুদের ত্বক বড়দের থেকে অনেক বেশি সেনসেটিভ। তাই তাদের ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারায় এবং অনেক বেশি রুক্ষ হয়ে যায়। শিশুর মুখে এবং সারা শরীরে বেবি লোশন, বেবি অয়েল, গ্লিসারিন ইত্যাদি ব্যবহার করুন।

শিশুর প্রয়োজনীয় শীতকালীন প্রসাধনী

🟥 যা যা একদমই করবেন না…….

➡️ অযথা শিশুকে অতিরিক্ত সোয়েটার পরিয়ে রাখবেন না। এতে ঘাম জমে সেই ঘাম শীতকালীন ঠান্ডা বাতাসে শুকিয়ে শিশুর নানান সমস্যা তৈরি করতে পারে।

➡️ শীতকালে নবজাতকের মাথা ন্যাড়া না করা ভালো।

➡️ শিশুর নাক বা মুখের ওপর কাপড়, লেপ, কম্বল ইত্যাদি দেবেন না।

➡️ জ্বর হলে শিশুকে অতিরিক্ত জামাকাপড় পরাবেন না। এতে শরীরের তাপ আরও বেড়ে যায়। উষ্ণ রাখবে এমন যথাসম্ভব হালকা কাপড় পড়ান।

➡️ হামাগুড়ি দেয় বা সদ্য হাটতে শিখেছে থাকলে এমন শিশু ঘরের মেঝেতে কার্পেট ব্যবহার করবেন না। কারপেটের রোয়াক এবং আটকে থাকা ধুলোয় শিশুর অসুবিধা হবে। ম্যাট বা মাদুর ব্যবহার করতে পারেন যেটা সহজেই পরিস্কার করা যায়,ধুলো আটকে থাকে না।

🔴সতর্কতা

শীতের শুরুতে এবং রোদ উঠলে মাঝে মাঝেই শিশুর লেপ, তোশক, কম্বল, চাদর, ইত্যাদি রোদে দিতে হবে। রোদ থেকে তোলার পর তা ঝেড়ে ঘরে রাখতে হবে। আর ধুলাবালু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এসবের ওপর কাপড়ের কভার ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। একইভাবে শীতের পোশাকও ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে পড়ানো উচিত।

  • লিখায়- মাইশা চৌধুরী কুমু
    শিশু বিকাশ এবং সামাজিক সম্পর্ক,
    কলেজ অফ হোম-ইকোনোমিক্স, আজিমপুর।
    ই-মেইল: maisachowdhury26@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.